সহজ ভাষায় টেনেট: সায়েন্স ফিকশন মুভি

এটা সায়েন্স ফিকশন মুভি। মুভিতেও সায়েন্স কম আর ফিকশন বেশি দেখানো হয়েছে। যেহেতু মুভিতে দেখানো থিওরিটি বাস্তবে প্রমাণিত নয়, তাই সেটি বুঝতে গিয়ে মাথা নষ্ট না করে মুভির মূল কাহিনীর প্রতি বেশি জোর দিচ্ছি। তাই – Don’t try to understand it, feel it.

সময়ের ধর্ম হল বর্তমান থেকে ভবিষ্যতের দিকে যাওয়া, পেছনে যা ফেলে আসবে সেটাই অতীত। মুভিতে যে ‘টাইম ইনভার্সন’ দেখানো হয়েছে তা হলো কোনো ব্যাক্তি বা বস্তুকে সময়ের ধর্মের বিপরীতে নিয়ে যাওয়া, অর্থাৎ বর্তমান থেকে অতীতে ফেরত আসা। আর এই কাজটি করা হচ্ছে এন্ট্রপি কমিয়ে। কিন্তু এই টাইম ইনভার্সন মানে অতীত পাল্টে দেয়া নয়, যা ঘটে গেছে তা হবেই, কেউ টাইমে পেছনে গিয়ে অতীত পাল্টানোর চেষ্টা করলে সেটাও ঘটে যাওয়া ঘটনার একটি অংশ মাত্র।

উদাহরণঃ ধরুন আমার কাল সকাল ৮ টায় একটি চাকরীর ইন্টারভিউ আছে। আমি ঘুম থেকে উঠে দেখলাম ১০ টা বেজে গেছে, ইন্টারভিউ দিতে না পারায় চাকরীটা হল না। এখন আমি টাইম ইনভার্সন করে রাতে ফেরত গিয়ে ফোনে এলার্ম দিয়ে আবার নরমালে ফেরত এসে ঘুমিয়ে গেলাম, তাহলে দেখা যাবে যে সকালে ঘুমের ঘোরে আমি নিজেই এলার্ম অফ করে আবার ঘুমিয়ে গেছি, ১০ টায় উঠেছি, ইন্টারভিউ দিতে পারিনি।

টাইম ইনভার্স করে অতীতে ফেরত গিয়েছি, এলার্ম দিয়েছি, আবার এলার্ম অফ করে ঘুমিয়েছি – এভাবে একই ঘটনা বারবার টাইম লুপে চলতেই থাকবে অনন্তকাল।
আর নরমাল এনট্রপি এবং রিভার্স এন্ট্রপিতে চলা -দুটো ঘটনাই একসাথে ঘটবে। ইনভার্টেড আমি সকাল থেকে রিভার্সে গিয়ে রাত ৩ টায় দেখবো আমার নরমাল ভার্সন ঘুমাচ্ছে।

টেনেট আসলে কি?

মানে যা হবার তা হবেই, টাইম ইনভার্স করাটাও সেরকমই একটি ঘটনার অংশ। উল্টোগতিতে চলার সময় ফুসফুস উল্টো কাজ করায় শ্বাস নিতে বিশেষ অক্সিজেন মাস্ক লাগবে আর নিজেকে ছাড়া সবাইকে তখন উল্টোভাবে চলছে বলে মনে হবে।

ইনভার্টেড হলেও কিছু দৃশ্যে দেখবেন মাস্ক লাগছে না, কারণ তখন তারা এমন রুমে আছে যেটার চারপাশ প্লাস্টিক দিয়ে মোড়ানো আর ভেতরে আর্টিফিশিয়াল অক্সিজেনের ব্যাবস্থা আছে।

রেড কালার মানে নরমাল এন্ট্রপি আর ব্লু কালার রিভার্স এন্ট্রপির জন্য (পরিচালক দর্শকের বুঝার সুবিধার জন্য এটি করেছেন)। একবার ইনভার্সন করে পেছনে গিয়ে আবার ইনভার্সন করলে পুনরায় সবাইকে নরমাল গতিতে দেখা যাবে এবং তখন আর মাস্ক লাগবে না – ক্লিয়ার?

ফিউচারে যে বিজ্ঞানী (একজন মহিলা) নিউক্লিইয়ার ইনভার্স রেডিয়েশনকে কাজে লাগিয়ে টাইম ইনভার্সনের প্রযুক্তি বানিয়েছিলেন, তিনি এই প্রযুক্তি ব্যাবহার করে পুরো পৃথিবীর এনট্রপি কমিয়ে আনার একটি এ্যালগরিদম তৈরি করেন।

পরে তিনি নিজের ভুল বুঝতে পারেন, কারণ এভাবে একই টাইম-স্পেসে ফরোয়ার্ড আর রিভার্স – দুই টাইপের টাইম চলতে থাকলে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই তিনি টাইমে পেছনে গিয়ে তার বানানো এ্যালগরিদমকে ৯ টি ফিজিক্যাল পার্টে ভাগ করে ৯ টি ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় রেখে নিজে আত্মহত্যা করে ফেলেন, যাতে কেউ এটি আর খুঁজে না পায়।

ফিজিক্যাল পার্টে ভাগ করার পেছনে লজিক হল যাতে এটি কেউ কপি বা ট্রান্সমিট করতে না পারে। কিন্তু ফিউচারে পৃথিবী বসবাসযোগ্য না থাকায় কিছু লোকজন চাচ্ছিলো অতীতে পৃথিবীর ভালো অবস্থায় ফিরে যেতে।

তাই ফিউচারের সেই দল অতীতের এ্যান্ড্রে স্যাটরকে একটি কন্ট্রাক্ট দেয়; সে যাতে ওই ৯টি জায়গা থেকে এ্যালগরিদমগুলো বের করে একসাথে নির্দিষ্ট এক জায়গায় (স্টলস্ক ১২) রেখে বোমা মেরে পুঁতে ফেলে (সিনেমার শেষের দিকের অংশ) আর ফিউচারের লোকজন সেখান থেকে পরে নিয়ে নিতে পারে।

এই কাজের বিনিময়ে স্যাটরকে তারা গোল্ডবার সাপ্লাই দেয়। টেনেটের কাজ হল এটি ঠেকানো এবং এভাবে পৃথিবীকে বাঁচানো।

প্রতিটি দৃশ্যের বর্ননাঃ

১। জন ডেভিড ওয়াশিংটন, প্রোটাগনিস্ট একটি সিআইএ মিশনে কিভ অপেরা হাউজে যায়; যেখানে একজন স্পাইকে ছাড়িয়ে আনতে হবে এবং সাথে একটি প্যাকেজও। সেখানে ব্যাকপ্যাকে লাল ট্যাগ ওয়ালা ব্যাক্তি উল্টো গুলি করে প্রোটাগনিস্টের জীবন বাঁচায়। কিন্তু পরে রাশিয়ানদের হাতে ধরা পড়ে প্রোটাগনিস্ট সায়ানাইড পিল খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

২। ঘুম থেকে উঠে দেখে সে একটি জাহাজে। এটি একটি টেস্ট মিশন ছিল, এখন তাকে টেনেট নামক অর্গানাইজেশনের জন্য কাজ করতে হবে। তাকে কিছুদিন একটি উইন্ডমিলের ভেতরে রেখে, পরে ছেড়ে দেয়া হয়। উইন্ডমিলে রাখার ব্যাখ্যা হল –তখন প্রোটাগনিস্টের আরেকটি ইনভার্টেড ভার্সন উপস্থিত ছিল, তাই তারা যাতে একজন আরেকজনকে দেখতে না পারে সেজন্য এই আইসোলেশন।

৩। প্রোটাগনিস্ট তখন টেনেটে গিয়ে সেখানে কর্মরত একজন সায়েন্টিস্টের সাথে দেখা করে যেখানে সে ইনভার্টেড বুলেট নিয়ে কাজ করছিল।

৪। বুলেটের সন্ধানে প্রোটাগনিস্ট মুম্বাইতে প্রিয়ার বাড়িতে নিলের সহায়তায় হানা দেয়। সেখানে জানতে পারে প্রিয়াও টেনেটের সদস্য। প্রিয়া আসলে সেটর নামক একজন আর্ম ডিলারের সাথে ফিউচারের মানুষের সম্পর্কের ব্যাপারটা জানার জন্য তার কাছে বুলেটগুলো বিক্রি করেছিল, যদিও বিক্রি করার সময় সেগুলো ইনভার্টেড ছিল না।

৫। ব্রিটিশ ইন্টেলিজেন্স স্যার মাইকেলের কাছ থেকে ইনফর্মেশন নিয়ে প্রোটাগনিস্ট পেইন্টিং বিক্রির বাহানায় ক্যাটের সাথে দেখা করে, সেটরের স্ত্রী (৬’২”) । জানতে পারে তাদের স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য জীবন খুব একটা ভালো না।

সেটরকে একটি ফেইক পেইন্টিং বিক্রি করাতে সে ক্যাটকে ব্ল্যাকমেইল করে, তাদের ছেলে ম্যাক্সের সাথেও ঠিকমত দেখা করতে দেয় না। ভিয়েতনাম ট্রিপে শেষ যেদিন সেটর কিছুটা খুশি মেজাজে ছিল, সেদিন কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সে বোট থেকে চলে যায়, পরে ম্যাক্সকে নিয়ে ফেরত এসে দেখে সেটরের বোট থেকে একটি মেয়ে পানিতে লাফ দিচ্ছে।

একটি আস্ত প্লেন কেনা হয়েছিল

৬। যাই হোক, সেটরের সাথে মিটিং করিয়ে দেয়ার শর্তে নিল, প্রোটাগনিস্ট এবং মিহির মিলে অসলো এয়ারপোর্টের ফ্রিপোর্টে রাখা সেই পেইন্টিং চুরি করতে একটি প্লেন ক্র্যাশ করায় (এই দৃশ্যের জন্য একটি আস্ত প্লেন কেনা হয়েছিল) । সেখানে একটি টার্নস্টাইল মেশিন থেকে দুজন মাস্ক পরা লোক বেরিয়ে আসে, ইনভার্টেড এবং নন-ইনভার্টেড। নিল বাধা দেয়ায় প্রোটাগনিস্ট ইনভার্টেড ব্যাক্তিকে ছেড়ে দেয়।

৭। পেইন্টিং নস্ট করে ফেলেছে ভেবে ক্যাট সেটরের সাথে প্রোটাগনিস্টকে দেখা করিয়ে দেয়, কিন্তু যখন জানতে পারে সেটর আগেই পেইন্টিংটা সরিয়ে রেখেছিল, ক্যাট সেটরকে মারার চেষ্টা করে। মিশনের খাতিরে প্রোটাগনিস্ট সেটরকে বাঁচায় এবং প্রিয়ার কথামত সেটরকে অফার করে যে প্লুটোনিয়াম-২৪১ (আসলে এ্যালগরিদমের নবম পার্ট) সে খুঁজছে সেটা ইউক্রেনিয়ান সিকিউরিটি সার্ভিসের কাছ থেকে চুরি করে এনে দেবে, বিনিময়ে ক্যাটকে মুক্ত করে দিতে হবে।

৮। প্রোটাগনিস্ট এবং নিল মিলে প্লুটোনিয়াম চুরি করে ফেরার পথে ব্রিফকেইসে একটি উল্টো অডিও ক্লিপ প্লে হচ্ছিল। এরপর ইনভার্টেড সেটর নরমাল ক্যাটকে জিম্মি করে ব্রিফকেইসটি নিয়ে নেয়। প্রোটাগনিস্ট খালি ব্রিফকেইস দেয়াতে ইনভার্টেড ক্যাটকে কাঁচের ওপারে (প্রুভিং উইন্ডো) গুলি করে কথা আদায়ের চেষ্টা করে, কিন্তু প্রোটাগনিস্ট মিথ্যা বলে।

এরমাঝে নিল এবং টেনেটের দলের লোকজন চলে আসাতে সেটর টার্নস্টাইল মেশিনে ঢুকে পড়ে, মানে রিভার্সে চলে গিয়ে ক্যাটকে গুলি করে, যেটি দেখিয়ে নায়কের কাছ থেকে কথা বের করার চেষ্টা করেছিল। দুই রুমের মাঝে কাঁচের দেয়াল থাকাতে ইনভার্টেড সাইডের কথাগুলো উল্টোভাবে শোনাচ্ছিল, নরমাল সাইডে বসা প্রোটাগনিস্টকে যেটি বিশেষ স্পিকার দিয়ে সোজা করে শোনানো হয়েছিল। তাই আমরা একসাথে দুই ধরনের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম।

৯। ইনভার্টেড বুলেটের ক্ষত ঠিক হতে তাদের আবার ইনভার্টেড হতে হবে এবং সপ্তাহখানেক সময় লাগবে, তাই তারা এক সপ্তাহ আগের অসলো এয়ারপোর্টে যাবে বলে ঠিক করে। এদিকে প্রোটাগনিস্ট রিভার্সে গিয়ে ব্রিফকেইসটি সেটরকে দেয়ার ঘটনা ঠেকাতে সিলভার গাড়ি নিয়ে রওনা হয়। সেখানে রাস্তায় ফেলে দেয়া খালি ব্রিফকেইসে ওয়্যারলেস ট্রান্সমিটার লাগিয়ে সেটরের কথাগুলোই সে এইবার সোজাভাবে শুনতে পায়, আগে যেটি উল্টোভাবে বাজছিল।

সেটর প্রোটাগনিস্টের গাড়ি ধাক্কা দিয়ে উল্টে দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয় কিন্তু রিভার্স হিট ট্রান্সফারের জন্য সে বেঁচে যায় (হাইপোথার্মিয়া)। আসলে সেটর যেহেতু টেম্পোরাল পিনসার মুভমেন্ট করেছে; তাই সে আগে থেকেই জানতো যে প্রোটাগনিস্ট সিলভার গাড়িতে (মাঝের) করে আসবে। সেটর অপেক্ষা করছিল কখন সিলভার গাড়িটা আসবে আর কখন সে এ্যালগরিদমটা তার কাছ থেকে কেড়ে নেবে।

১০। কনটেইনারে তারা তিনজন রিভার্সে ৭ দিন থাকার পর মোটামুটি সুস্থ হয়। এয়ারপোর্টের টার্নস্টাইল ব্যাবহার করে নরমাল হওয়ার কিছু আগে প্লেন বিস্ফোরণের ধাক্কায় প্রোটাগনিস্ট নিজের নরমাল ভার্সনের সামনে পড়ে যায়। এরপর তারা তিনজনই নরমাল ভার্সনে ফেরত আসে, প্রোটাগনিস্ট প্রিয়ার সাথে কথা বলে ফাইনাল মিশনের প্রস্তুতি নেয়। এখানে আবার সেই উইন্ডমিলের জায়গাটা দেখায়, এর মাঝে কোনো একটার ভেতরেই প্রোটাগনিস্টের নরমাল ভার্সন ছিল।

সবগুলো এ্যালগরিদম সংগ্রহ হয়ে গেল

এদিকে রেডিয়েশনের প্রভাবে সেটরের ক্যান্সার, সে এমনিও মরে যাবে, তাই তার সবগুলো এ্যালগরিদম সংগ্রহ হয়ে গেলে সে ঠিক করে আত্মহত্যা করবে এবং সেটা সেই ভিয়েতনামের ছুটির দিনটায়। সেটরের ফিটনেস ট্র্যাকারের সাথে হাইপোসেন্টারের বোমার লিংক করা আছে। সেটরের হার্টবিট চলে গেলে, মানে সে মরে গেলে এ্যালগরিদমসহ বোমাটি ব্লাস্ট হবে।

নিল আর প্রোটাগনিস্টের কাজ হল ব্লাস্টের আগে এ্যালগরিদম বাঁচানো, ক্যাটের কাজ হল এ্যলগরিদম হাতে না আসার আগ পর্যন্ত সেটরকে বাঁচিয়ে রাখা (ক্যাট আবার ইনভার্টেড হয়ে নরমাল হয়ে যায়, যেটি মুভিতে দেখানো হয়নি)। বলে রাখা ভালো এই ব্লাস্টের কথাই স্যার মাইকেল বলেছিল, মানে ব্লাস্ট হয়ে গেছে, এটা আর ঠেকানো যাবে না।

১১। ফাইনাল মিশন শুরু হয় সেই ব্যোম ব্লাস্টের ঠিক ১০ মিনিট আগে, যেখানে তাদের টিম টেম্পোরাল পিনসার মুভমেন্ট করে রেড (নরমাল) এবং ব্লু (রিভার্স) টিমে ভাগ হয়ে পুরো মিশনটি পার্ফেক্টলি শেষ করে। উদাহরণঃ মিশনের ঠিক মাঝামাঝি ৫ মিনিটের মাথায় দুই টিম একই বিল্ডিয়ের উপরে এবং নিচে দুটি বাজোকা মেরে বিল্ডিংটি ভালোভাবে ধ্বংস করে দেয়।

হাইপোসেন্টারে এ্যালগরিদমকে মাটিতে পুঁতে দেবার প্রস্তুতি নেবার সময় গেইটের ওখানে আবার সেই লাল ট্যাগের ব্যাকপ্যাকের ইনভার্টেড মৃত ব্যাক্তি গেইট খুলে দেয় (আসলে সে বাইরে থেকে এসে গেইট খুলে গুলি খেয়ে মরে পড়ে ছিল, কিন্তু প্রোটাগলিস্টের পয়েন্ট অফ ভিউতে মরা লোক জেগে উঠে গেইট খুলে চলে গেছে)।

এসময় নিল (রিভার্স টিম) যখন দেখে সুরুঙ্গের পথটি বোমা মেরে সিল করে দেয়া হয়েছে, তখন সে সেই এলাকায় থাকা একটি টার্ন্সটাইল ব্যাবহার করে রেড টিমে (নরমাল) চলে আসে আর এ্যালগরিদমসহ প্রোটাগনিস্টকে উপর থেকে টেনে তোলে। ক্যাটের হাতে সেটর মারা যায়, মানে ফিউচারের ক্যাটের হাতে ফিউচার সেটর মারা যায়।

১২। এ্যালগরিদম হাতে চলে আসার পর আবার সেটা নিল, প্রোটাগনিস্ট এবং আইভস তিনভাগে ভাগ করে নেয় আর প্ল্যান করে যে – পার্টগুলো কোথাও লুকিয়ে নিজেরা আত্মহত্যা করে নেবে।

কিন্তু নিল তার পার্টটি প্রোটাগনিস্টকে দিয়ে বলে আমাকে যেতে হবে। যাবার আগে বলে যায় যে, নিল প্রোটাগনিস্টকে অনেক আগে থেকে চেনে, ভবিষ্যতে প্রোটাগনিস্টই টেনেট অর্গানাইজেশন বানাবে, নিলকে সে-ই রিক্রুট করবে।

লোকেশন ট্র্যাক করে

প্রিয়া এদিকে ক্যাটকে মারার চেষ্টা করলে ক্যাটকে দেয়া ফোনের মাধ্যমে লোকেশন ট্র্যাক করে ফিউচারের প্রোটাগনিস্ট ঠিক সময়ে এসে প্রিয়াকে মেরে ফেলে।

মানে দাঁড়ালো এখন প্রোটাগনিস্ট টেনেট বানাবে, নিলকে রিক্রুট করবে, নিলকে পাঠাবে অপেরা হাউজে গিয়ে প্রোটাগনিস্টের পাস্ট ভার্সনকে বাঁচাতে, তারপর পুরো মিশন শেষ করে আবার শেষে সুরুঙ্গ সিল করার আগেই এসে গেইট খুলে দিয়ে নিল মরে যাবে। আর এই পুরো মুভিটাই একটা টেম্পোরাল পিনসার মুভমেন্টের পাস্ট ভার্সন।

এই ভার্সনে প্রোটাগলনিস্ট জানতো না যে অপেরা হাউজে কে এসে তাকে বাঁচিয়েছে, কারণ সে তখনও টেনেট অর্গানাইজেশন বানায় নি, ফিউচারে বানাবে। অপেরা হাউজ মিশনে প্রোটাগনিস্টকে পাঠানো, এ্যালগরিদম বাঁচানো, সেটরের সাথে দেখা হওয়া, পুরো মুভির সবই টেনেটের প্ল্যানের পার্ট।

মুভিতে অসংখ্য ক্ষুদ্র ডিটেইলস আছে যেগুলো নিয়ে আলোচনা করতে গেলে কনফিউজড হয়ে যাবার সম্ভাবনা আছে, তাই ইচ্ছা করেই এড়িয়ে গিয়েছি। ভালো করে মুভিটা দেখলে আপনারা মুভির অনেক দৃশ্যেই একই ব্যাক্তির বিভিন্ন ভার্সনের অস্তিত্ব খুঁজে পাবেন (ইচ্ছা করেই ফোকাসে রাখা হয়নি)।

আমার মতে এটি সময়ের আগের একটি মুভি, যেটি নিয়ে আগামী ২০/৩০ বছর মানুষ কথা বলবে, অনেকটা 2001: A Space Odyssey (1968) এর মত। মুভিটি সম্পর্কে আরো কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানাতে পারেন।

©মোঃ তাহশিকুল আলম

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *