প্রথমেই বলব এটা কি দেখলাম ! মুভি, নাকি অন্যকিছু!

প্রথমেই বলব এটা কি দেখলাম ! মুভি, নাকি অন্যকিছু ! ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের মুভি। আমি এক মিনিটের জন্যেও চোখ সরাতে পারিনি। পুরা মুভি জুরে সাসপেন্সে ভরা। এর পরের সিন কি হতে পারে ধারনা করার সাধ্য কারো নেই।

এত্ত দেরিতে মুভিটা দেখার প্রথম কারণ হচ্ছে, এত্ত গুলা বাজে রিভিউ আর আমার পরীক্ষা ছিল। যদি পজিটিভ রিভিউ দেখতাম তাহলে হয়ত পরীক্ষার মধ্যেও সময় বের করে দেখে ফেলতাম। আমি জানিনা যারা বাজে রিভিউ দিছেন তাঁরা কেন দিছেন।

অনেকে বলছে এটা নাকি ক্রিস্টোফার নোলানের করা সবচেয়ে বাজে মুভি। কিন্তু আমার মনে হয়না এত জটিল একটা স্টোরিকে উনি ছাড়া কেউ এত্ত গুছিয়ে ডিরেক্ট করতে পারতো। উনার পরিচালনা এবং সবার এক্টিং ঠিকঠাক ছিল।

বিসাব আর হিন্দি ডাব দুইটাই আছে

অনেকে বলছে মুভিটার পরিচালনা ঠিক হয়নি, বুঝতে অনেক অসুবিধা হচ্ছিল তাদের বলবও উনার সব মুভিই এরকম। Interstellar, Inception এইগুলাও এমনই ছিল। কয়েকবার দেখার পর মুভি বুঝা যায়। মুভিটা ফ্লপ হবার প্রধান কারণ ছিল Covid-19 আর এত্তগুলা বাজে রিভিউ।

যাইহোক এইগুলা ছিল আমার ব্যক্তিগত মতামত। যদি কারো মুভি ভালো না লেগে থাকে, সেটা তাঁর ব্যাপার। তবে তাদেরকে অনুরোধ করবো মুভিটা আরেকবার ধৈর্য ধরে দেখুন। বিসাব আর হিন্দি ডাব দুইটাই আছে। সুতরাং যার যেভাবে ভালো লাগে দেখতে পারেন।

প্রায় এক দশক ধরে টেনেটর কনসেপ্ট নিয়ে আলোচনার পরেও , চিত্রনাট্য রচনায় নোলান পাঁচ বছরেরও বেশি সময় নিয়েছিলেন। ২০১৯ সালের মার্চে এর কাস্টিং শুরু হয়েছিল, এবং মে মাসে ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ভারত, ইতালি, নরওয়ে, যুক্তরাজ্য, এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে প্রধান চিত্রগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছিল। সময় আগে-পিছে যাওয়ার দৃশ্যগুলি সামনে-পেছনে উভয় দিকেই ধারণ করা হয়েছিল।

প্লটঃ একজন সিআইএ প্রতিনিধী যে কিনা মুভির প্রধান চরিত্র, কিয়েভ অপেরা হাউসে একটি আন্ডারকভার অপারেশনে অংশ নেয়। সেখানে একজন মুখোশধারী সৈনিক তার জীবন রক্ষা করে। সেখানে নায়কের মিশনটি ফেল হয়ে যায় এবং তাকে বন্দী করা হয়।

এরপর তাঁর মুখ থেকে কথা বের করার জন্যে তাকে নির্যাতন করা হয়। সে কোন তথ্য না দিয়ে সায়ানাইড সেবন করে সেখানেই সুইসাইড করে। এখান থেকেই কাহিনীর শুরু। আমি স্পয়লার দিতে চাচ্ছিনা বলে আর বলতে চাচ্ছিনা।

নায়কের মিশন

এই মুভিতে বিশেষ করে যেটা দেখানো হয়েছে সেটা হচ্ছে আপনি সময়ের পেছনে গিয়ে টাইম ট্রাভেল না করে বরং আপনি সময়ের সামনের দিকেই যাবেন, কিন্তু ঘটনা প্রবাহ হবে পেছনের দিকে।

যার ফলে আপনি সময়ের সামনের দিকে গিয়েও অতিতে ভ্রমণ করতে পারবেন। এন্ট্রফি দিয়ে যেটাকে নোলান এক্সপ্লেইন করছে মুভিতে। এন্ট্রফি হচ্ছে কোন বস্তুতে তাঁর কণাগুলার বিশৃঙ্খলার পরিমাপ।

ধরুন একটা ডিম আপনার হাত থেকে মাটিতে পরে গেল। এতে করে ডিম টা ভেঙ্গে যাবে এবং এর কণার বিশৃঙ্খলাও বেড়ে যাবে। কিন্তু আপনি যদি কোনভাবে এর কণার বিশৃঙ্খলা গুলা রিভার্স করতে পারেন, মানে কমাতে পারেন তাহলে ডিমটা আবার ধীরে ধীরে পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসবে।

যদিও এটা কেবল ফিকশন। আমি যেহেতু মুভিটা এক্সপ্লেইন করতে যাচ্ছিনা তাই এইগুলা নিয়ে আর বলছিনা। তাহলে স্পয়লার হয়ে যাবে। কিন্তু এইটুকু জেনে রাখলে অনেকেরই মুভিটা বুঝতে সুবিধা হবে। কষ্ট করে পড়ার জন্যে সবাইকে ধন্যবাদ।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *