ইনসেপশন মুভির সাথে বাস্তবতার সম্পর্ক কতটুকু

যতই অবাস্তব হোক না কেন সাই-ফাই সিনেমা শেষ করার পরে দর্শকদের মনে একটা প্রশ্ন থেকেই যায়, “এটি কি বাস্তবে সম্ভব?” সাই-ফাই মুভিতে বাস্তবতাকে প্রাধান্য দিয়ে যারা মুভি তৈরি করে তাদের মধ্যে ক্রিস্টোফার নোলান অন্যতম।

কাজ করার সময় তিনি তার সাথে একজন ফিজিসিস্ট (পদার্থবিদ) থাকেন; যার নাম- কিপ থর্ন। বর্তমান সময়ের শ্রেষ্ঠতম একজন পদার্থবিদ তিনি।

🪄শুরুর কথাঃ

গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ (মহাকর্ষীয় তরঙ্গ) নিয়ে কাজ করার জন্য ২০১৭ সালে নোবেল পুরস্কার পান কিপ থর্ন। সাই-ফাই জগতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র ইন্টারস্টেলার নির্মাণের সময় পদার্থবিজ্ঞানের যাবতীয় বিষয়াদির দেখাশোনা করছিলেন কিপ থর্ন।

কিপ থর্নের গুণোগান গাইতে আসি নাই অবশ্যই। আলোচনা করব ইনসেপশন মুভির সাথে বাস্তবতার সম্পর্ক কতটুকু; তা নিয়ে। 📢আলোচনায় কোনো স্পয়লার নেই।

ইনসেপশন চলচ্চিত্র দেখা, না দেখা সবাই পড়তে পারেন; কোনো সমস্যা নেই।📢 ইনসেপশন সিনেমায় আমরা দেখতে পাই, সেখানে কবের দল দিব্যি স্বপ্ন দেখছে এবং স্বপ্নের ঘটনা নিয়ন্ত্রণও করতে পারছে। কী অদ্ভুত ব্যাপার! এমনটা কি আদৌ সম্ভব?

বিজ্ঞান বলছে সম্ভব। আর সেটি সম্ভব হয় এক বিশেষ ধরনের স্বপ্নের মাধ্যমে, যার নাম হচ্ছে “লুসিড ড্রিম”। এই লেখাটা পড়ে আপনি “লুসিড ড্রিম” খুব ভালো ধারনা পাবেন, এমনটা নয়। এ সম্পর্কে খুব ভালো ধারণা পেতে Stephen LaBerge এর Exploring the World of Lucid Dreams বা Lucid Dreaming: A Concise Guide to Awakening in Your Dreams and in Your Life পড়তে পারেন।

⛔লুসিড ড্রিম কী?

লুসিড ড্রিম এমন এক প্রকারের স্বপ্ন যেখানে স্বপ্নে থাকা মানুষটি বুঝতে পারে যে তিনি স্বপ্ন দেখছেন এবং স্বপ্নচারীর হাতে কিছু নিয়ন্ত্রণ থাকে যেমনঃ স্বপ্নের চরিত্র, পরিবেশ ইত্যাদি কেমন হবে তার ওপর। সাধারণত REM Sleep থেকেই স্বপ্ন দেখা প্রক্রিয়া শুরু হয় (REM Sleep, non REM sleep কী; তা জানার ইচ্ছা থাকলে ইন্টারনেট ঘাটাঘাটি করতে পারবে)।

সর্বপ্রথম মনে করা হয় যে এই ড্রিমিং অনুভূত করেন অ্যারিস্টোটল। তিনি বলেন যে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকাকালীন কোন ব্যাক্তি এই সময় বুঝতে পারে যে সে ঘুমাচ্ছে এবং যে স্বপ্ন দেখছে সেই স্বপ্নের মধ্যে থাকা বিষয় বা বস্তু সম্পর্কে সে সচেতন এবং সেই বস্তু তার সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারছে। আবার ১৭ শতকে স্যার থমাস ব্রাউনি একই ব্যপার ব্যাখ্যা করেন।

⛔লুসিড ড্রিমের প্রতিরূপঃ

চেতন ও অবচেতন মনের একটি বিরল সংমিশ্রণে এমনটা হয়। সাধারণত লুসিড ড্রিমিং এর সময় আপনি স্বপ্ন বেশ পরিষ্কারভাবে দেখতে পাবেন। এই স্বপ্নের প্রদত্ত অনুভুতিগুলো খুবই তীব্র হবে প্রায় বাস্তবের মতন।

আপনি চাইলেই স্বপ্ন দৃশ্য নিজের ইচ্ছের মতন করে নিতে পারেন। নিজের স্বপ্ন নিজের মত দেখতে পারেন। স্বপ্নের মধ্যে নিজের নিয়ন্ত্রণ খাটে না, এ কথাটাই লুসিড ড্রিমিং-এ খাটে না!

⛔লেখার উদ্দেশ্যঃ

১৯ শতকে ফ্রেঞ্চ সাইকোলজিস্ট মেরি-জি-লিন শুধু লুসিড ড্রিমিং এর উপরেই বই লিখে ফেলেন। তাহলে বুঝতে পারছেন, লুসিড ড্রিমিং আসলে নতুন কিছু নয়, যুগ যুগ ধরে অনেকেরই এই অভিজ্ঞতা হয়েছে! এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে পুরো পপুলেশনের প্রায় ২৩% লুসিড ড্রিমিং করে, কেউ প্রাকৃতিক ভাবে কেউ বা চর্চা করে।

গতকাল গ্রুপের একজন মেম্বার কমেন্টে এরকম কিছু লেখেন, “কেজিএফ চ্যাপটার টু ছবির ট্রেলারে যশের মেশিনগান দিয়ে গুলি করে গাড়ি উপরে তোলার ব্যাপারটি অযৌক্তিক হলে ক্রিস্টোফার নোলানের স্বপ্নের ব্যাপারটিকে অযৌক্তিক নয়?”

⛔তার সোজাসাপ্টা উত্তরটি হচ্ছে, “না। অযৌক্তিক নয়।”

ক্রিস্টোফার নোলান একটি মুভি চিত্রনাট্য লিখতে আট-দশ বছর সময় নেন তার কারণ এই না যে তিনি মুভিটিকে কমপ্লিকেটেড বানাবেন। তিনি মূলত চান তার কল্পনার সাথে বিজ্ঞানের একটি সমন্বয় ঘটাতে (তার এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন)।

ক্রিস্টোফার নোলানের যত মুভি আছে, তাতে দেখানো প্রায় জিনিসগুলোরই বাস্তবসম্মত ব্যাখ্যা রয়েছে (খেয়াল রাখবেন, আমি “প্রায়” শব্দটি ব্যবহার করেছি)। ব্যাখ্যা রয়েছে ম্যান অফ স্টিল এ সুপারম্যানের আকাশে ওড়ার।

ব্যাখ্যা রয়েছে ইন্টারস্টেলার এ এই গ্রাভিটি ব্যবহার করে ব্ল্যাক হোল থেকে পৃথিবীতে কারো ঘরে সিগনাল পাঠানোরও। অনেকের কাছে ব্যাপারগুলি অসম্ভব মনে হতে পারে, তবে মনে রাখবেন “অসম্ভব” শব্দটি তো পুরোপুরি আপেক্ষিক (মিশিও কাকু বলেছিলেন)।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *