আপনাকে বাধ্য করবে এই মুভিকে সেরার কাতারে রাখতে

ডেভিড লিনচের এপিক কম্পলিকেটেড থ্রিলার মুভি এটি,মুভির শুরু করলে কি হচ্ছে বুঝতে কস্ট হবে,কিন্তু শেষে এমন এক টুইস্ট রয়েছে যা আপনাকে বাধ্য করবে এই মুভিকে সেরার কাতারে রাখতে,মুভিটা প্রথম দেখে কিছু বুজতে পারি নি কিন্তু ব্যাখ্যা পাওয়ার পর মুভি অসাধারণ লেগেছে,কিছু 18+ সিন রয়েছে জাস্ট স্টোরি ডেভেলপ করার জন্য,মুভিটি দেখে ফেলতে পারেন।এখানে কিছু ব্যাখ্যা দেওয়া হলো পুরোটি বুঝতে হলে নেট ঘাটতে হবে…….

Name: Mulholland Drive(2001)
Mystery/Thriller
Imdb:7.9/10
83℅ Rotten tomatoes

সতর্কীকরণ: যারা মুভিটা দেখেন নাই তারা ভুলেও এটা পইড়েন না

তবে একবার মুভিটা দেখে থাকলে এটা পড়ে আবার দেখতে পারেন। ডেভিড লিঞ্চের মুলহল্যান্ড ড্রাইভ স্বপ্ন এবং বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য ঘুচিয়ে দিলেও দুয়ের মধ্যে একটা সূক্ষ্ণ পার্থক্য ধরে রাখে।

এই পার্থক্যটা বুঝতে পারলেই সিনেমাটির অনেক কিছু বুঝে ফেলা যায়। প্রথমবার দেখে আমি অনেক কিছুই বুঝিনি। পরে নেটে বিভিন্ন জায়গা থেকে পড়ে বুঝতে পারলাম। ইংরেজি একটা লেখা থেকে খানিকটা অনুবাদ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে এখানে লিখছি।

এই সিনেমার দৃশ্যগুলোকে প্রায় ১১ ভাগে ভাগ করা যায়। বলা যায় সিনেমাটা বানানো হয়েছে ১১টা সিকোয়েন্সে। কিন্তু নির্মাণের পর লিঞ্চ এগুলোকে নন-লিনিয়ার করে ফেলেছেন, বাস্তবে ১১টা সিকোয়েন্স যেভাবে ঘটে সেভাবে না দেখিয়ে ওলট-পালট করে দেখিয়েছেন।

১১টা সিকোয়েন্স বাস্তবে ঘটে এভাবে:

১) ডায়ান একটি ড্যান্স প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়। তার বাবা-মা প্রতিযোগিতায় উপস্থিত থেকে তাকে উৎসাহ দেয় এবং প্রতিযোগিতার পর তারা একসাথে সেলিব্রেট করে।

২)ক্যামিলা ও ডায়ান সোফায় সে* করে এবং করার সময় ক্যামিলা বলে, তাদের এর সে*করা উচিত না। (অ্যাশ ট্রে টি লক্ষ করবেন, এটা বাস্তবতার চিহ্ন)

৩)সিনেমার জন্য আনা প্রাইভেট কারে ক্যামিলা ও পরিচালক কিস করে।

৪)ডায়ান একটি ফোন কল পায়, তাকে বলা হয় লিমুজিনে উঠতে। গাড়িটি তাকে পরিচালকের বাসার নিচে নামিয়ে দেয়। ডিনারের জন্য তাকে পরিচালকের বাসায় নিমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ‘

এই পার্ঠিতেই ডায়ান জানতে পারে, তার প্রেমিকা ক্যামিলা ও পরিচালক বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে খুব অপমানিত হয়। এই পার্টির চরিত্রগুলো লক্ষ্য করবেন কারণ এরা ডায়ানের স্বপ্নের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

৫)ডায়ান একটি রেস্তোরাঁয় হিটম্যানের সাথে বসে আছে। সে হিটম্যান ভাড়া করে ক্যামিলাকে খুন করার জন্য। কারণ ক্যামিলা তার সাথে প্রতারণা করেছে।

৬)ডায়ান বাসায় ফিরে এসে খুব অনুতপ্ত হয়।

৭)বালিশে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ে ডায়ান। পুরো স্ক্রিন জুড়ে লাল রং এর একটি বালিশ দেখানো হয়- লক্ষ্য করবেন, কারণ এখান থেকে শুরু হয় ডায়ানের স্বপ্নের জগৎ।

৮)দীর্ঘ একটি স্বপ্ন দেখে ডায়ান। নিজের অনুতাপ এবং অতৃপ্তি থেকে এই স্বপ্নের জন্ম। বাস্তবে সে ব্যর্থ অভিনেত্রী ও ব্যর্থ প্রেমিকা। স্বপ্নে সে খুবই সফল অভিনেত্রী। স্বপ্নের হিটম্যান একেবারেই আনাড়ি, তাই সে ক্যামিলাকে মারতে ব্যর্থ হয়, সড়ক দুর্ঘটনায় বেঁচে যায় একা ক্যামিলা।

ক্যামিলা ঘুরতে ঘুরতে তারই আন্টির বাসায় আশ্রয় নেয় যেখানে তার সাথে প্রথম দেখা হয় ডায়ানের। এখানেই ডায়ান ও ক্যামিলার নতুন সফল প্রেম শুরু হয়। অন্যদিতে সে দেখে পরিচালকের জীবন খুবই দুর্বিসহ, সুতরাং ক্যামিলা ও পরিচালকের বৈবাহিক জীবন কোনভাবেই ভাল হতে পারে না।

স্বপ্নের রাখাল চরিত্রটি ডায়ানের আত্ম-উপলব্ধির চালিকাশক্তি। ডায়ান ও ক্যামিলা থিয়েটারে নাটক দেখতে যায়, এখানেই ডায়ান প্রথম বুঝতে পারে, তার প্রেম-সাফল্য-এডভেঞ্চার এর এই জীবন কেবলই স্বপ্ন।

স্বপ্নের রাখাল চরিত্রটি ডায়ানের আত্ম-উপলব্ধির চালিকাশক্তি

তাই কাঁদতে শুরু করে তারা। ডায়ান ঘরে ফিরে এসে একটি বাক্স পায় যা ক্যামিলার মৃত্যুর প্রতীক। সে ক্যামিলাকে মারার অনুতাপ টের পেতে শুরু করে আবার। এমন সময়ই তার বেডরুমের দরজায় উঁকি দিয়ে রাখাল লোকটি বলে, “it’s time to wake up”. শেষ হয় স্বপ্নের।

৯)বাস্তবে ডায়ানের ঘুম ভাঙে আসলে দরজায় কড়া নাড়ার শব্দে। তার প্রতিবেশী এসেছে তার জিনিসপত্র নিয়ে যেতে, সে নিজের অ্যাশট্রে (বাস্তবতার প্রমাণ) উঠিয়ে নেয় এবং তাকে বলে যায়, গোয়েন্দারা নাকি তাকে খুঁজছে। এসময় আমরা নীল চাবিটি দেখতে পাই যার অর্থ হিটম্যান ক্যামিলাকে খুন করতে সফল হয়েছে।

১০)কফি বানানোর সময় ডায়ান মনে করে সে ক্যামিলাকে দেখছে, এটা কেবলই দিবাস্বপ্ন, তীব্র অনুতাপ ও প্রেম থেকে হ্যালুসিনেশন।

১১)ডায়ান সোফায় বসে নীল চাবিটির দিকে তাকিয়ে থাকে, এসময় আবার দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ শোনা যায়, সম্ভবত গোয়েন্দারা, জানার উপায় নেই। স্বপ্নের জগতে তার সকল ভয়-ভীতির উৎসস্থল থেকে উঠে আসে তার বিবেকের প্রতীক তথা তার বাবা-মা।

নীল চাবি, নীল বাক্স, বিবেক এবং ভয়ের দংশন এবং কড়া নাড়ার শব্দে ডায়ান এবার নিজের ঘরের দিকে ছুটে পালায়। আর সহ্য করতে না পেরে অবশেষে পিস্তল ঠেকিয়ে আত্মহত্যা করে।

লিনিয়ারভাবে দেখালে এটা বুঝতে কোন অসুবিধা হতো না, কিন্তু সেক্ষেত্রে সিনেমার প্রকৃত উদ্দেশ্য তথা বাস্তব ও স্বপ্নের সীমানা নিয়ে লিঞ্চের সব পরীক্ষাই ব্যর্থ হতো, এই সীমানা বিষয়ক পরীক্ষাই সিনেমাকে অমর করেছে। লিঞ্চ যেভাবে দৃশ্যগুলো দেখিয়েছে তার সিকোয়েন্স হচ্ছে:

১, ৭, ক্রেডিট, ৮, ৯, ১০, ২, ৩, ৪, ,৫, ৬, ১১, শেষের ক্রেডিট লক্ষ্য করলেই স্বপ্ন ও বাস্তবতার পার্থক্য বোঝা যায়। বাস্তবে ডায়ানের মুখ সর্বদা বিষাদমাখা থাকে, কিন্তু স্বপ্নে সে সদা উজ্জ্বল যা তার সাফল্যের প্রতীক। বাস্তবের পৃথিবীতে সুর এবং রং নেই কিন্তু স্বপ্নের জগৎ তীব্র থেকে তীব্রতর রং এবং মিউজিকে ভরপুর।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *